বৃহস্পতিবার (৮ মে ২০২৫) দুপুর ২ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বুদ্ধিজীবী চত্বরে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে মানববন্ধনের আয়োজন করে বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব। মানববন্ধন থেকে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের প্রতিবন্ধী কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির দাবী জানানো হয়।

বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মোঃ জিহাদ আলী বলেন, “আজ ৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়ার দুই কোটি বাহক এবং এক লাখ রোগী রয়েছে। দুই বাহকের বিয়ে বন্ধ করার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিয়ের আগে ছাত্রজীবনেই হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফরেসিস টেস্ট করে থ্যালাসেমিয়ার বাহক কী না জেনে নেওয়া উচিত। থ্যালাসেমিয়া মেজর রোগীদের মাসে এক বা একাধিকবার রক্ত নিতে হয়। অসুস্থতা ও রক্তগ্রহণের কষ্ট ফেইস করতে গিয়ে পড়াশোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা জরুরী। সেই সাথে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তির সুযোগ করে দিতে হবে।”

বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি সৈয়ব আহমেদ সিয়াম বলেন, “থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের সেবা ও থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে আমরা সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবী পেশ করছি। আশা রাখি, আগামী বছর থ্যালাসেমিয়া দিবস আসার আগেই আমাদের দাবী পূরণের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সদয় হবেন। দাবীগুলো হলো:

১. সরকারি খরচে ছাত্রজীবনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক টেস্টের ব্যবস্থা করতে হবে। ২. মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তকে প্রতিটি শ্রেণিতে থ্যালাসেমিয়া সংক্রান্ত স্বতন্ত্র অধ্যায় সংযোজন করতে হবে। ৩. প্রতি জেলায় থ্যালাসেমিয়া পেশেন্টদের জন্য স্পেশালাইজড হাসপাতাল তৈরি করতে হবে। ৪. থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের ফ্রি চিকিৎসা ও এবিষয়ে গবেষণার জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে। ৫. থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে স্বীকৃতি দান করে সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা ও কোটা প্রদান করতে হবে।”

উল্লেখ্য, বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব একটি সেবামূলক সামাজিক সংগঠন। তারা কাজ করছে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সেবা ও তারুণ্যের ইতিবাচক বিকাশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *