আজকে পরিচিত ঢাবির একজন ভাই হুজুরদের সমাবেশ নিয়ে খুব উষ্মা প্রকাশ করলো।হুজুররা নাকি ঢাবিরে নোংরা বানাইয়া ফেলতেছে।হেনতেন..!
ভাইয়ের একটা গল্প বলি। ওই ভাইটা আমার একজন বড় ভাইয়ের সৌজন্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশন টাইমে হাটহাজারী মাদরাসায় আমার মেহমান হয়েছিলেন।তার সাথে আরো দুইএকজন ছিলেন।
ভাইয়ের সাথে আমার কোনো পূর্বপরিচিত ছিল না।যাস্ট আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভাইদের মেহমানদারি করলাম।ভাইকে রাতে আমার সিট ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমার সীটেই ছিলেন।আমি যেহেতু মাদরাসা থেকে খাবার তুলতাম না,তাই আমার আরেকজন সাথী ভাইয়ের দস্তরখানায় তাকে মেহমানদারি করাইলাম।
মাদরাসা থেকে প্রত্যেক ছাত্রের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার দেয়।আমার সাথী ভাই তার পাতের ভাত থেকে নিজে কম খেয়ে ওই ভাইরে খাওয়ায়লেন।যতদূর পারা যায় মেহমানদারি করলেন দুদিন। পরে ভাইটা ঢাবিতে টিকলেন আলহামদুলিল্লাহ।


শুধু তিনি না। চবি এডমিশন টাইমে অনেক শিক্ষার্থী হাটহাজারী মাদরাসায় মেহমান হন। অথচ মাদরাসার ছাত্ররা তাদের চিনে না। শুধু আল্লাহর জন্য তাদের মেহমানদারি করেন। নিজের পাতের খাবার তাদেরকে তুলে দেন। নিজের থাকার সীটতাও তাদের জন্য ছেড়ে দেন। নাক ছিঁটকান তো দূরের কথা।
এডমিশন টাইমে আপনি মাদরাসার মসজিদে গেলে কিছুটা আঁচ করতে পারবেন।

অথচ মাদরাসার ছাত্ররা ভার্সিটিতে ঢুঁ মারলেই ভার্সিটির ভাইরা বাঁকা চোখে দেখেন।উষ্মা প্রকাশ করেন।
এমনকি যারা মাদরাসা থেকে কোনো না কোনো সময় সুবিধা নিয়েছেন তারাও।

কলোনিয়াল শিক্ষা ব্যবস্থা আপনাদেরকে সুশিক্ষিত করতে পারে নাই। স্ট তাদের স্টান্ডার্ডটুকু আপনার মাথায় সেট করে দিয়েছে। প্রকৃত শিক্ষা কখনো তার বাহককে সুপরিয়র করে তুলে না।বিনয়ী করে।

২০১৩ সালে আপনারা যদি হুজুরদের নাঁক না ছিটকিয়ে বুকে আগলায় রাখতেন স্বৈরাচার ১১ বছর আপনাদের উপর জেঁকে বসতে পারতো না।

মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
ফারেগ: দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী

কনটেক্সট: ৫ নভেম্বর ২০২৪ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাবলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার সাথীদের ঢাবির এলাকা ব্যবহার করা।

সংযুক্তি: ঢাবি ক্যাম্পাস পরিষ্কারও করলেন ইসলামী সমাবেশে আসা অতিথি-প্রতিনিধিরা (ডেইলি ক্যাম্পাস)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *