চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) চীনের নির্যাতিত উইঘুর মুসলিমদের ওপর মুহাম্মাদ এনামুল হোসাইনের লেখা বই ‘কাশগড়ঃ কতো-না অশ্রুজল’ নিয়ে পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) চবি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দুপুর ২:৩০ টায় শিক্ষার্থীরা পাঠচক্রটি আয়োজন করেন।
পাঠচক্র শেষে বিকাল ৪ টায় চীনের উইঘুর মুসলিমদের কাঠামোগত গণহত্যার প্রতিবাদে বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাবের পক্ষ থেকে মানববন্ধন করা হয়।
পাঠচক্রে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের আতাতুর্ক ইউনিভার্সিটির সাবেক সহকারী অধ্যাপক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের লেকচারার ড. মোমিন। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের লেকচারার ড. মুমিন বলেন, ‘আমরা অনেকেই ফিলিস্তিনের মজলুমদের নিয়ে আলোচনা করি। কিন্তু, আমরা প্রায় কেউই উইঘুর বা অন্য মজলুমদের নিয়ে সচেতন নই। কাশগড়ঃ কতো-না অশ্রুজল বইটি সেই অন্য মজলুমদের করুণ অবস্থা আমাদের সামনে তুলে ধরে।’
দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমাদের উচিত অন্যায়ের প্রতিরোধ করা। না পারলে মুখে নিন্দা করা। তাও না পারলে অন্তরে ঘৃণা করতে হবে।’

চবি বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আব্দুল্লাহ বলেন, ‘চীনের মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশ জিনজিয়াংয়ে উইঘুররা বসবাস করে। তাদের ওপর চীনের কমিউনিস্ট সরকার চালাচ্ছে কাঠামোগত গণহত্যা। ত্রিশ লক্ষ উইঘুর মুসলিম নারী-পুরুষ বন্দী চীনের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে। চলছে অমানুষিক নির্যাতন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ। শ্রমদাসত্ব। ভাগ্যক্রমে যারা ক্যাম্পের বাইরে রয়ে গেছে তাদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে এক নিশ্ছিদ্র পুলিশি রাষ্ট্র। সরকারী লাইসেন্স নিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে হান ‘আত্মীয়’। চলছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ধর্ষণ। বন্দীদের ওপর চলছে মেডিকেল এক্সপেরিমেন্ট। জোরপূর্বক গর্ভপাত, অর্গান হারভেস্টিং। মানুষের বিকিকিনি। নামায নিষিদ্ধ। রোযা নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ দাড়ি, হিজাব, আরবি বর্ণমালা। গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে অগণিত মাসজিদ আর কবরস্থান। ঘোষণা দিয়ে বিকৃত করা হচ্ছে কুরআন। না। এটা অতীতের কোনো গল্প না। ভবিষ্যতের কোনো কল্পকাহিনী না। আজকের পৃথিবীর কথা। আমাদের বর্তমানের কথা। বিশ্ববিবেক আর মানবতার নীরবতার প্রাচীরের আড়ালে ভয়াবহ গণহত্যা চালাচ্ছে চীন। পূর্ব তুর্কিস্তানের প্রায় আড়াইকোটি উইঘুর-কাযাখ মুসলিমদের ওপর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নাৎসিদের চাইতেও অনেক হিসেবী এই গণহত্যার ঘাতকেরা, অনেক তীব্র এই গণহত্যার মাত্রা। অনেক পরিপাটি চীনের এই আগ্রাসন। আমরা এই গণহত্যার বিচার চাই। উইঘুর মুসলিমদের যথাযথ অধিকার চাই।’
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও সার্বভৌম সংস্কৃতি তৈরির স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।


