চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের পাশে বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই মোড় মাইলফলক হয়ে থাকে অধিকাংশের জীবনে। জীবনভর বহন করা যায় নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়। এই পরিচয় গ্রহণের প্রস্তুতিটা সত্যিই বিচিত্র অনুভূতিতে সমৃদ্ধ।
সবুজ গাছগাছালিতে আবৃত পাহাড়ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস আয়তনে বাংলাদেশের বৃহত্তম। এটি প্রাকৃতিক ঝর্ণা ও নিজস্ব শাটল ট্রেন সমৃদ্ধ দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে চান্স পেতে হয় এই শিক্ষাঙ্গণে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ৪ টি ইউনিট ও ৩ টি উপ-ইউনিটে মোট ৪ হাজার ১৬৫টি আসনের বিপরীতে অংশ নিচ্ছেন ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৭ জন শিক্ষার্থী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিশাল সংখ্যক ভর্তি পরীক্ষাদের সেবায় পাশে আছে সেবামূলক সংগঠন বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব।

একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে জ্ঞানভান্ডারকে সমৃদ্ধ করা। জনস্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণার নিমিত্তে ২০১৭ সালে পথচলা শুরু করে বায়োমেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সংক্ষেপে বিআরএফ)। বিআরএফ সমৃদ্ধ সায়েন্টিফিক জার্নালে প্রায় ১৫০ টি পেপার পাবলিকেশন করেছে। আচ্ছা, শুধু পেপার পাবলিশ করলেই তো কাজ শেষ হয়ে যায় না। গবেষণার ফলাফলগুলো মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করতেও কাউকে না কাউকে কাজ করতে হয়। এই প্রয়োগকে সামনে রেখেই জনস্বাস্থ্য, মানবসেবা ও তারুণ্যের ইতিবাচক বিকাশে কাজ শুরু করে বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব৷ বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব কাজ করছে রক্তদান, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সেবা, মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের কমিউনিটি বেইজড প্যালিয়েটিভ কেয়ার, পথশিশুদের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মাদক নির্মূলে সচেতনতা বৃদ্ধি সহ শিক্ষার্থীদের পজিটিভ ডেভেলপমেন্ট নিয়ে। শিক্ষার্থীদেরকে বইমুখী করতে পাঠাগার ও পাঠচক্র পরিচালনা করে থাকে। গবেষণামুখী করতে আয়োজন করে থাকে রিসার্চ কোর্স ও সেমিনারের। শিক্ষার্থীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি বা উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।
বিস্তৃতি: বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিলা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিশ্ববিদ্যালয় সহ কক্সবাজার ও নওগাঁ জেলায় শিক্ষা ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে যত আয়োজন:

ভর্তি প্রস্তুতি: বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব মূলত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে। তাই, ক্লাবের এতসব সেবা ও গবেষণামূলক কাজগুলোতে যুক্ত হতে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া জরুরী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য ক্লাবটি বিভিন্ন ক্যারিয়ার গাইডলাইন সেমিনার, ওয়েবিনার ও পাঠচক্র আয়োজন করে আসছে। সিনিয়র সদস্যরা ভর্তি পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত মেন্টরিং করে থাকেন। বিনামূল্যে গাইডলাইন ক্লাসের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
হেল্পলাইন: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সহায়তার জন্য ইউনিট ভিত্তিক হেল্পলাইন নাম্বার চালু করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা এখানে কল করে তথ্যসেবা গ্রহণ করছেন। বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব তাদের কার্যক্রমের আপডেট জানাতে ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ পরিচালনা করে থাকে। একই সাথে ওয়েবসাইট brfyouth. এ বিভিন্ন তথ্য আর্কাইভ করা থাকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এম নিয়াজ মাখদুম হেল্পলাইনটি পরিচালনা করে থাকেন। ফোন নাম্বারটি হলো: 01710-673205
আবাসন: ভর্তি পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াত করতে হয়। নতুন শহরে দুই তিন দিন অবস্থানের জন্য আবাসন খোঁজা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যবৃন্দ নিজেদের হল ও মেসের সিটে পরীক্ষার্থীদের রাখার ব্যবস্থা করছে।
হেল্পডেস্ক: বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সেবায় পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হেল্পডেস্ক প্রদান করে থাকে। হেল্পডেস্কে বিনামূল্যে পানি, টিস্যু এসব উপকরণ করা হয়ে থাকে। পরীক্ষার্থীরা হেল্পডেস্কের বুথে নিরাপদে নিজেদের মোবাইল ও ব্যাগ জমা রাখার সুযোগ পান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাবের হেল্পডেস্ক থেকে বিনামূল্যে ফ্যাকাল্টি ও পথনির্দেশিকা সংবলিত ক্যাম্পাসের ম্যাপ বিতরণ করা হয়। বুথ থেকে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্র সমূহের যাতায়াত পথ সম্পর্কে জানতে পারেন।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ: ভর্তি পরীক্ষার সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে প্রচুর ভীড় ও যানজট সৃষ্টি হয়। এই যানজট নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষার দিনগুলোতে চাকসুর সাথে যৌথভাবে বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাবের ভলেন্টিয়াররা দিনব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে।প্রাথমিক চিকিৎসা:ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরী মুহূর্তে ফার্স্ট এইডের ব্যবস্থা রেখেছে বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবীবৃন্দ। শাটল ট্রেনের শিডিউল এবং অ্যাম্বুলেন্সের তথ্যও সরবরাহ করা হয়ে থাকে পরীক্ষার্থীদের জন্য।

বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব – চবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান আব্দুল্লাহ বলেন, “ভর্তি পরীক্ষার দিনগুলোতে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ঢল নামে। চবি ক্যাম্পাস আয়তনে বাংলাদেশের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। এত বড় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সহজে পরীক্ষা কেন্দ্র সমূহ খুঁজে পেতে আমাদের ভলেন্টিয়াররা কাজ করে থাকে। আমাদের হেল্পডেস্ক থেকে পরীক্ষার্থীদের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টেড ম্যাপ বিতরণ করা হয়। আমরা পরীক্ষার দিনগুলোতে ফজরের পর থেকেই হেল্পডেস্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করি৷ আলহামদুলিল্লাহ, বুথ থেকে নিয়মিত শতাধিক পরীক্ষার্থী তথ্যসেবা গ্রহণ করছেন। আমরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সিটপ্ল্যান দেখানো, ম্যাপ দেখানো এবং কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছি। পরীক্ষার দিন যানজট কমাতে ক্যাম্পাসের ভেতরে রিকসা চলাচল বন্ধ থাকে। হেঁটে চলাচল করতে গিয়ে ক্যাম্পাস আয়তনে বড় হওয়ায় অনেকে ভুল পথে যাওয়ার উপক্রম হয়৷ আমাদের ভলেন্টিয়াররা তাদেরকে গাইড করে কেন্দ্রে পৌঁছাতে সহায়তা করেন।”
বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব – চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক এম নিয়াজ মাখদুম বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২, ৩ ও ৯ জানুয়ারি এ, ডি ও সি ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১০ তারিখে বি ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা পরীক্ষা থেকে শুরু করে ফলাফল প্রকাশের পর ভর্তি করানো পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবো, ইনশাআল্লাহ। আর এইসব সেবামূলক কাজ আমরা শুধু আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করছি। সবাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করলেই একটা সুন্দর পৃথিবী বিনির্মাণ সহজ হবে, ইনশাআল্লাহ।”


