চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেনে মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত বগির দাবিতে ৪,০০০ গণস্বাক্ষর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত বগির দাবিতে ৪,০০০ জনের অধিক শিক্ষার্থীর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব।

সোমবার (১০ নভেম্বর ২০২৫) বেলা ১১ টায় বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাবের পক্ষ থেকে চবির প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনের কাছে শাটল ট্রেনে মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত বগি দাবিতে ৪,০০০ জনের অধিক শিক্ষার্থীর গণস্বাক্ষর হস্তান্তর করা হয়।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহ দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে বগি ও শিডিউল সংখ্যা পর্যাপ্ত না হওয়ায় সকল শিক্ষার্থীর আসন গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। অনেক শিক্ষার্থীকেই ভীড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। আমরা আশা রাখবো, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সমস্যার সমাধানে কাজ করবে। অনেক নারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন যে, ভীড়ের মধ্যে শাটল ট্রেনে ছেলেদের সাথে যাতায়াতে তারা অস্বস্তি বোধ করেন। অনেকে ব্যাড টাচের শিকার হয়েছেন। ছেলেদের সাথে দাঁড়িয়ে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। এমনকি কেউ কেউ এসব অস্বস্তি থেকে শাটল ট্রেনের পরিবর্তে ভিন্ন যানবাহন ব্যবহারের বিষয়টিও জানিয়েছেন।”

তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে শাটল ট্রেনে মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত বগির দাবি এসেছে। বাংলাদেশে মেট্রোরেলে নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত বগির বিষয়টি চালু আছে। ভারত, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, জাপান, মিশর, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশে নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত বগির উদ্যোগটি প্রচলিত আছে। আমরা অবিলম্বে শাটল ট্রেনে মেয়েদের সংরক্ষিত বগি বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”

বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নিয়াজ মাখদুম বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবামূলক সংগঠন বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব সংরক্ষিত বগির বিষয়ে জনমত জানতে গণস্বাক্ষর গ্রহণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার হাজারের অধিক শিক্ষার্থী মেয়েদের সংরক্ষিত বগির দাবীর সাথে একাত্মতা পোষণ করে স্বাক্ষর প্রদান করেছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা দাবী জানাচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন অবিলম্বে শাটল ট্রেনে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি সংরক্ষিত বগির ব্যবস্থা করবেন।”

প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, “৪,০০০ শিক্ষার্থীর এই দাবিটি যৌক্তিক। এখন যেহেতু নির্বাচিত চাকসু রয়েছে। আমি বলবো, চাকসুর মাধ্যমে বিষয়টি উপস্থাপন করা হোক। আশা করি একটা ভালো সমাধান আসবে।”

দাবি জানিয়ে গণস্বাক্ষর ও স্মারকলিপি প্রদানের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন চাকসুর সহ যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল সালমান, চাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব, চবি শাখার সভাপতি অন্তর সফিউল্লাহ, সৈয়ব আহমেদ সিয়াম, মোঃ ইসতিয়াক হোসেন মজুমদার, মোঃ কাউসার আহমেদ ও ইয়াসিন সিয়াম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *